সংলাপে সমাধান : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

১৫ মার্চ, ২০২১ ১৫:৫৮  
ধারাবাহিক সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতার মাধ্যমে টেলিকম খাতের টানাপোড়েন থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার। তিনি বলেছেন, টেলিকম খাতে বিস্তর কাজ হয়েছে কিন্তু বিস্তর কাজ এখনো বাকি আছে। এই খাত সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ বা আলোচনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতার মাধ্যমে উত্তরণ সম্ভব। শ্যামসুন্দর সিকদার রোববার সন্ধ্যায় এমটব ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ৪র্থ ও সমাপনী অনলাইন আলোচনায় (ওয়েবিনার) প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসি প্রধান  আরও বলেন, দেশে ডাটার মূল্য গত এক দশকে অনেক কমেছে। তিনি বলেন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক অপারেটর, টাওয়ার কোম্পানি, মোবাইল অপারেটর ও নিয়ন্ত্রণ (রেগুলেটর) সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার। “বাংলাদেশে মোবাইল যোগাযোগঃ আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক আলোচনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন  ডিআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডঃ মোঃ সবুর খান। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসকালে বোঝা গেছে মোবাইল ও ইন্টারনেট কত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ও ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের একেবারেই চলে না। তিনি আরও বলেন, ইন্ডাস্ট্রি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা দরকার। আমাদের প্রচুর ট্যালেন্ট গ্র্যাজুয়েট আছে কিন্তু এই দুই খাতের মধ্যে সমন্বয় না থাকার কারণে আমরা তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। এই ট্যালেন্টদের যথাযথাভাবে কাজে লাগানো গেলে তারা প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব সৃষ্টি করার মতো যোগ্যতা রাখে। অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় এমটব প্রেসিডেন্ট এবং মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার এমডি ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ দেশে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাত বিকাশের অন্তরায় প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল খাতের কনজিউমার ট্যাক্স আর সকল খাতের চেয়ে বেশি। একজন গ্রাহক মোবাইলে ১০০ টাকা খরচ করলে তার মধ্যে ৫৩ টাকা চলে যায় বিভিন্ন ধরনের ভ্যাট ও ট্যাক্স হিসেবে আর ২০ টাকা খরচ হয়ে যায় খাতের অন্যান্য লাইসেন্সিদের কাছে নানা রকম সেবা গ্রহণ করতে। তিনি আরও বলেন একদিকে মোবাইল অপারেটরের ব্যাবসায়িক লাভ না থাকলেও ২% টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হয় আবার করপোরেট ট্যাক্স ৪৫%। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কর কাঠামো সংস্কার এবং ইউনিফাইড লাইসেন্স করা দরকার যেন মোবাইল সেবাদাতারা আরও বেশি ধরনের সেবা প্রদান করতে পারে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ এবং টেলিযোগাযোগ ও কর নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে টেলিকম খাতের সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ কামরুজ্জামান। মোঃ কামরুজ্জামান প্রস্তাব করেন জাতীয় বাজেট উপস্থাপনার আগে বিটিআরসিসহ টেলিযোগাযোগ খাতের সবাই আলোচনা করে এ সংক্রান্ত সুপারিশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে উপস্থাপন করা যায়। অনুষ্ঠানের মূল (কি-নোট) আলোচক এরিকসন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুস সালাম বলেন, প্রতিবছর জাতীয় বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতের উপর নতুন করে কর আরোপ করা হয় যা এই খাত সংশ্লিষ্টদের বিস্মিত (সারপ্রাইজ) করে। তাছাড়া বহু ধরনের লাইসেন্সির জন্য এখানে জটিল ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে যা সেবার মানে প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বেতার তরঙ্গ নিলাম অত্যন্ত স্বচ্ছতার সংগে হয়েছে যা আশপাশের দেশগুলোতে খুব প্রশংসিত হয়েছে, বলেন তিনি, কিন্তু ভালো মানের সেবার জন্য আরও অনেক বেশি স্পেকট্রাম দরকার। ডিআইইউ-এর ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির এসোসিয়েট ডিন প্রফেসর এ কে এম ফজলুল হক বলেন মোবাইল ইন্টারনেট থাকায় কোভিডকালে শিক্ষা প্রদানে কোন ব্যঘাত ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের নানা রকম টুলস ব্যবহার করে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। প্যানেল সঞ্চালক এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অবঃ) বলেন গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক ওয়েবিনারে ইন্ডাস্ট্রি, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও এনবিআর-এর প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা অংশ নেন ও এই খাতের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন ডিআইইউ-এর ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান তসলিম আরেফিন।